সহিংসতারও আছে নিজস্ব বুলি। আছে নির্যাতনকারীর কথা — যা অপমান করে, নিজেকেই দোষী মনে করায়। আর আছে আশপাশের মানুষের কথা, যা অনেক সময় না বুঝেই দোষ চাপিয়ে দেয় ভুল মানুষের ঘাড়ে।
নির্যাতনকারীর কথা
- “আমাকে ছাড়া তোমার কোনো মূল্য নেই।”
- “তুমি সব বানিয়ে বলছ, এমন কিছু কখনো ঘটেনি।”
- “তুমি অল্পতেই বেশি কষ্ট পাও, সব কিছু বাড়িয়ে দেখো।”
- “তোমার বন্ধুরা তোমার মাথা খাচ্ছে, ওদের সঙ্গে আর দেখা করবে না।”
- “শুধু আমিই তোমাকে বুঝি।”
প্রতিদিন শুনতে শুনতে এসব কথা ধীরে ধীরে নিজের ওপর বিশ্বাস ভেঙে দেয়। অনেক নারী শেষে নিজেকে দুর্বল, অস্থির, “পাগল” ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু সত্যিটা অন্য: সমস্যা আপনি নন।
দোষ যখন ভুল ঘাড়ে চাপে
একে বলে ভুক্তভোগীকে দোষ দেওয়া, ইংরেজিতে victim blaming: যা ঘটেছে তার দায় যে ক্ষতি করেছে তার কাছ থেকে সরিয়ে চাপানো হয় যে ক্ষতির শিকার, তার ওপর।
- “নিজেই ডেকে এনেছে, দেখো না কেমন জামাকাপড় পরত।”
- “ওখানে গেল কেন? জানত তো কী হতে পারে।”
- “ও যদি রাগিয়ে না দিত, তাহলে তো কিছুই করত না।”
এটা দ্বিতীয় দফার সহিংসতা, আর এর ক্ষতি অনেক বড়: সাহায্য চাওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়, কারণ ভয় হয় কেউ বিশ্বাস করবে না; আর এতে আক্রমণকারীর ক্ষমতা আরও বাড়ে।
পত্রিকাও শব্দ বেছে নেয়
“পারিবারিক সহিংসতা” না লিখে “পারিবারিক কলহ” লেখা, কিংবা একটা খুনের খবরে “হঠাৎ ঈর্ষায় অন্ধ হয়ে” লেখা — যা ঘটেছে তাকে ছোট করে দেখায়। আর খবর যখন আক্রমণকারী কী করেছে তার বদলে ভুক্তভোগী কী করেছিল তা নিয়ে বেশি কথা বলে, তখন সেই একই চক্র আরও শক্ত হয়।
ভাষা নিরপেক্ষ নয়। হয় তা সহিংসতার পক্ষে দাঁড়ায়, নয়তো তার বিরুদ্ধে।
ভেবেচিন্তে শব্দ বেছে নিন, আর যাঁরা প্রতিদিন এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন, তাঁদের সঙ্গে লেখাটি শেয়ার করুন।